পোরো বা মেছো দেও নামক ভূত
আমি গ্রামের ছেলে। নদীতে, খালে বিলে মাছ ধরা, খেলাধুলা করা এগুলো আমার শখ। আমার এলাকার জমি গুলো দুই ফসলী, মানে বছরে শুধু দুইবার ধান চাষ হয়। বর্ষার আগে এবং শরতের শুরুর দিকে রাতে ধানি জমিতে দা কিংবা টেঁটা দিয়ে মাছ ধরা আমার নিয়মিত কাজ।
এক রাতে মাছ ধরতে বের হয়েছি একা। হাতে মিডিয়াম রেঞ্জের সনিওর কালো টর্চ। কেমরে ছোট্ট দাও আর হাতে টেঁটা। সেদিন হালকা বৃষ্টি হয়েছিল সন্ধ্যায়। অনেক শোল, টাকি, শিং, মাগুর, বেলে, কৈ,বাইম মাছ পাচ্ছিলাম। একটা জংলা মত জায়গায় চলে গেলাম মাছ ধরতে ধরতে খেয়াল করিনি।৷ ওই জায়গাটা সাধারণত লোকজন এড়িয়ে চলে।
আমি হালকা স্বরে বললাম এই সারছে! ওখান থেকে ফিরে আসার জন্য যেই পিছু ঘুরলাম, অমনি কি একটা যেন পুরো জংলাটা তোলপাড় করে ফেলছিলো। শরীর একটু ভারী হয়ে আসলো আমার। টর্চ ঘুরিয়ে দেখলাম সবকিছুই শান্ত। আমি আবারও ফিরতি পথে হাঁটা শুরু করলাম। খেয়াল করলাম কে যেন আমার পিছু পিছু হাঁটছে। পরিচিত একজনের কন্ঠে কে যেন ডাক দিলো।
আমি পাত্তা না দিয়ে হাঁটতে থাকলাম। আবারও ডাক দিলো। এবার বললাম সামনে আয়!
বললো ক'টা মাছ দে, আমি চলে যাব।
আমি বললাম সামনে আয় মাছ দেব।!
বললো না তুই আমাকে মারবি, পিছনে ঘুরে দে।
আমি বললাম গেলি! না-কি তাড়াব?
বলল মাছ দে! বলেই বিকট হাসি!
টর্চের আলো নিভে গেলো হঠাৎ।
তখনই আয়াতুল কুর্সি পড়া শুরু করলাম।
তারপর দেখলাম একটু দূরে আবছা ছায়াটা আমার দিকে আসছে। আমি মাছের টুকরি হাতে নিয়েই আজান দিতে লাগলাম। এর মধ্যে আবারও টর্চের আলো জ্বালাতে সুইচে চাপ দিতেই জ্বলে উঠলো। দেখতে পেলাম বিদঘুটে কালো একটা অবয়ব আর্তনাদ করতে করতে জংলার দিকে ছুটে যাচ্ছে।
আমি টর্চের আলো সরাইনি, আমি দৌড়ে পালানোর চেষ্টাও করিনি। শুধু হাতের টেঁটাটা শক্ত করে ধরে রেখেছিলাম যেন বসিয়ে দিতে পারি। কিছুক্ষন পর বাড়িতে এসে মা'কে সবকিছু বললাম।
মা বললেন ভয়ের কিছু নেই, ওটা মেছো দেও।
(আমাদের চট্টগ্রামের ভাষায় এটাকে বলে "মাচ্ছ দেও")
তারপর থেকে ওদিকে মাছ ধরতে যেতাম না। যদিও দিনের বেলায় ঠিকই ফুটবল খেলতে যেতাম ওখানে।
